যুদ্ধে মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের ধারনা অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যকর্ষণ কেন্দ্র বলতে কোন যুদ্ধের মুলকেন্দ্র বিন্দু । ক্লাউসেভিতস এর মতে, প্রতিটি একক নিয়ন্ত্রিত নিয়মতান্ত্রিক সেনাবাহিনীর একটি কেন্দ্র থাকে, যা বাহিনী এবং যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করে। যার উপর সবকিছু নির্ভরশীল হয়ে থাকে। এই কেন্দ্রের নাম হল মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র। তার মতে এই মধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র কোন ব্যাক্তি হতে পারে, কোন মতাদর্শ হতে পারে আবার কোন গোষ্টিও হতে পারে।
ক্লাউসেভিতস তার রচিত “দ্য ওয়ার” বইয়ে উল্লেখ করেছে, ‘প্রতিটি রণকৌশলের পরিকল্পনার পিছনে দুটি মূলনীতি রয়েছে, যে মূলনীতিদ্বয় অন্য সব বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
প্রথম মূলনীতি হল, যুদ্ধ পরিকল্পনার সময় শত্রুর মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র সম্পর্কে অবগত হওয়া।
দ্বিতীয় মূলনীতি হল, বড় কোনো আক্রমণের সময় সেই মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সমস্ত বাহিনীকে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
আমেরিকা বরাবরই মধ্যেকর্ষণ কেন্দ্রের এই ধারনা — কে সিরিয়াসলি নিয়েছে । ভিয়েতনাম যুদ্ধে মধ্যকর্ষণ কেন্দ্রের ধারনা নিয়ে আমেরিকা অস্থিরতায় নিমজ্জিত ছিল , কখন তারা তারা উত্তর-দক্ষিণের যোগাযোগ রুট বিচ্ছিন্ন করার জন্য বোমা বর্ষন করেছিল। আবার কখনো নির্মমভাবে বোমা বর্ষন করেছিল উত্তর ভিয়েতনামে।
বর্তমান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও আমেরিকা একই ধোয়াশায় নিমজ্জ্বিত ছিল , কখন তাদের মতে এই যুদ্ধের মুল কেন্দ্র বিন্দু ছিল শাইখ উ*মার ক্যারিশমাটিক চরিত্র আবার কখনো কুফরের প্রতি ঘৃণা!
কুফরের প্রতি ঘৃণাকে — শত্রুপক্ষ আ — কায়ে*র মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করেছে । তারা এমন এক বিষয় কে তাদের শত্রুর কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে যা মুসলিমদের আকিদার কেন্দ্রবিন্দু । যা প্রতিটি মুসলিমের অন্তরে থাকবে । এই কারনেই তারা প্রত্যেকটি মুসলিম যারা এই আকিদায় বিশ্বাসি তাদের কে শত্রু মনে করে। হোক সে কোন জিহা* দলের সদস্য কিংবা নিতান্ত খেটে খাওয়া সাধারণ মুসলিম ।
অপরদিকে মুজাহি* রা প্রথম থেকেই আমেরিকার মধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রবিন্দু বলে চিহ্নিত করেছে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা। আরো সহজ ভাষায় বলতে গেলে ডলার । আমেরিকাকে অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল করে দেবার মানে হচ্ছে তাদের কেন্দ্র দূর্বল হয়ে যাওয়া । আর এই কাজটা অসম্ভব না । মুলত সেপ্টেম্বর এর হামলার পেছনে অন্যতম বড় উদ্দ্যেশ্য আমেরিকাকে দীর্ঘ্য মেয়াদি যুদ্ধে জড়ানো । তাদের নিজেদের পরিচিত ভুমিতে টেনে এনে এমন এক যুদ্ধে জড়ানো যেখান থেকে চাইলেও সে বের হতে পারবেনা । একই সাথে একাধিন ফন্টে আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করা । আর যার সামান্যতম রনকৌশলের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে সে মাত্রই জানেন যে, যুদ্ধের মুল হাতিয়ার হচ্ছে অর্থনৈতিক সক্ষমতা। যুদ্ধ যত বেশী দীর্ঘ্যমেয়াদি হবে আক্রমনকারী শক্তি অর্থণৈতিক ভাবে তত দূর্বল হবে । আর তাদের জেতার সম্ভাবনা তত কমতে থাকবে । সানজুর ভাষায় ,
‘ There has never been a protracted war from which a country has benefited.”
মজার বিষয় হচ্ছে , একদল দলের লোকের মতে আমেরিকা অপরাজেয় , আমেরিকার সাথে যুদ্ধে জড়ানো ছিল হটকারিতা । অথচ অনেক হিসাব নিকেষের পরেই আমেরিকাকে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছিল । কুফরের এই মাথাকে এমন এক চোড়াবালিতে এনে ফেলা হয়েছিল যার থেকে উদ্ধার পাওয়া তার জন্য অসম্ভব ছিল । যে যুদ্ধ আমেরিকাকে তিলে তিলে ভেতর থেকে দূর্বল করে দিয়েছিল। কোল্ড ওয়ারের শেষের দিকে কথিত যেই সুপার পাওয়ার আমেরিকার সাথে টক্কর দেবার কেও ছিল না । বর্তমান শতাব্দিতে এসে সেই আমেরিকা নিজেদের অর্থণৈতিক , মাইগ্রেন্ট , বর্ডার, র্যাসিজম সমস্যার সমাধান করতেই ব্যাস্ত । এমন কি তাদের মিত্রদের পক্সি ওয়ারে সাহয্য করা নিয়েও খোট আমেরিকার মধ্যেই দন্দ । আর মুজাহি*দের উদ্যশ্য এটাই ছিল যে আমেরিকা তাদের গুটিয়ে নিবে। তারা মুসলিমদের ব্যাপারে নাক গলাবে না । এই যুদ্ধে শুধুমাত্র আফগানে আমেরিকার পরাজয় হয় নি বরং সকল ফন্ট্রেই কুফফারদের পরাজয় কে ত্বরান্বিত করেছে । এই যুদ্ধে আ* কায়ে* অসম যুদ্ধে জড়ায় নি বরং আমেরিকাই পুরো মুসলিমদের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে জড়িয়েছে। এই যুদ্ধে আমেরিকাই দূর্বল । এই যুদ্ধে আমেরিকাই পরাজিত , এই যুদ্ধে আমেরিকাই লাঞ্চিত ।