মুফতী নিজামুদ্দিন শামজায়ী শহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন ,
” আমি আপনাদের কাছে যে কথা পেশ করতে চাই তা হল, যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখনো তা ভোটের মাধ্যমে হবে না। আপনি পশ্চিমাদের বানানো পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দল বানিয়ে গনতন্ত্রের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করতে চান? তাহলে শুনে রাখেন, পশ্চিমাদের বানানো পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে না। কেননা দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দুশমনরাই বেশি। ফাসেক, ফাজেরদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অধিক। আর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর। এতে মাথা গণনা করা হয় মাথার মূল্যকে নয়। অর্থাৎ সকল মানুষকে একই পাল্লায় মাপা হয় তাদের যোগ্যতার বিবেচনা করা হয় না। যেহেতু মানুষের মাথা গণনা করা হয় সে হিসেবে পশ্চিমাদের বানানো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কখনো ইসলাম কায়েম হবে না। যেমনিভাবে কখনো পেশাবের মাধ্যমে ওযু হবে না। মোটকথা, নাপাকের মাধ্যমে যেমনিভাবে, পবিত্রতা হাসিল হবে না তেমনিভাবে, অনৈসলামিক ও পশ্চিমাদের বানানো কুফরী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও কখনো ইসলাম কায়েম হবে না। যখন দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে তখন তা সেই একটি পদ্ধতিইে হবে যে পদ্ধতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গ্রহণ করেছেন। এটাই সেই জিহাদ যার মাধ্যমে এই দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার দ্বীন বিজয়ী হবে”।”
সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে , ভোট কে শুধু জায়েজ বলা হচ্ছে না , বরং একে আমানত হিসেবে উপস্থাপণ করা হচ্ছে , এই ব্যাপারে মাওলানা মুহাম্মদ হাকীম আখতার রাহিমাহুল্লাহ বলেন ,
কেউ বলবে ভোট আমানত, কেউ বলবে ভোট ওয়াকালত বা প্রতিনিধিত্ব। কেউ বলবে ভোট হচ্ছে সাক্ষ্য। ভোট যা কিছুই হোক, আমি এক একটি কথা জিজ্ঞাসা করছি – সাক্ষ্য দেওয়া হবে হকের ব্যাপারে। যে বাতিল শাসনব্যবস্থা রয়েছে, তার সমর্থনে ভোট দেওয়া হল সেই বাতিল নেজামকে মেনে নেওয়া, এই বলা যে এই বাতিল শাসনব্যবস্থা সঠিক! আপনি (ভোটকে) শাহাদাত বলছেন! তো আমি শাহাদাত মানছি, আপনি ওয়াকালত বলছেন! তো আমি ওয়াকালত মানছি, আপনি আমানত বলছেন! তো আমি আমানতও মেনে নিচ্ছি। আপনি যাই বলতে চান বলুন! কিন্তু আপনি এটা বলুন যে,
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, এই নাপাক শাসনব্যবস্থা, ইংরেজদের দেওয়া শাসনব্যবস্থা! এটাকে কার্যকরভাবে মেনে নিবেন কি নিবেন না?
মুফতি হামিদুল্লাহ জান সাহেব রহমাতুল্লাহ স্পস্ট করে ভোট দেয়াকে নাজায়েজ ফতোয়া দিয়ে বলেন ,
“আর ভোট দেয়া পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র ব্যবস্থাকে বাস্তবে মেনে নেয়া এবং সকল মন্দ কাজে শরীক হওয়ারই নামান্তর। এজন্য বর্তমানে পাশ্চাত্য ব্যবস্থার অনুগামী হয়ে ভোট দেয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে না জায়েয”।”
মাওলানা ফজলে মুহাম্মদ দামাত বারাকাতুহুম এর মত আমরা বলতে চাই ,
“গণ্যমান্য কিছু আলেমের বক্তব্য তো হল, ইসলামী গণতন্ত্র বলা তেমনি বোকামী হবে যেমন বোকামী হবে ইসলামী মদ বলা।”