যে কোন যুদ্ধে জনগণকে মুলত পাচটা শ্রেণিতে ভাগ করা হয় ।
.
১/ শত্রুর সেনাবাহিনি ।
২/ শত্রুর সাপোর্টার ।
৩/ নিরপেক্ষ জনগন ।
৪/ আক্রমণকারীর সাপোর্টার ।
৫/ আক্রমণকারীর পক্ষের সেনাবাহিনি ।
.
একজন দক্ষ সমরবিদের মুল টার্গেট থাকে , ধীরে ধীরে শত্রুতার মাত্রা কমিয়ে আনতে। যেমন যদি শ্ত্রু পক্ষের সেনাবাহিকে ধরা হয় ৫ মাত্রার শত্রু । তার চেষ্টা থাকবে তাকে অন্তত যুদ্ধের ফন্ট লাইন থেকে সরিরে এনে ৪ মাত্রার শত্রু অর্থাৎ সাপোর্টার এ পরিনত করতে । সে যেন অন্তত সরাসরি যুদ্ধ না করে। আবার যে সাপোর্টার তাকে চাইবে নিরপেক্ষ জনগনে পরিনত করতে । যাতে সে শত্রুর সাপোর্ট না যোগায় কিংবা শত্রু তাকে সাপোর্টার থেকে যুদ্ধের ফন্ট লাইনে না নিয়ে আসে । আবার নিরপেক্ষ জনগন কে চাইবে সাপোর্টার এ পরিনত করতে , সাপোর্টার কে চাইবে নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে আসতে ।
.
যুদ্ধের এইনীতি শুধু অস্ত্রের যুদ্ধের ক্ষেত্রেই খাটে না, মিডিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রেও খাটে । বর্তমান যুদ্ধ ব্যাবস্থাকে বলা হয়ে থাকে ৪র্থ প্রজন্মের সমরকৌশল । এই যুদ্ধ সংঘর্ষ কেবল মাত্র ব্যাটলফিল্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনা , বরং এই যুদ্ধে মিডিয়া, পারিবারিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক সব কিছুকে নিয়েই ।
২য় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশেষ করে, জায়নিস্টদের উত্থান এবং রাস্ট্রগুলোর গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থা গ্রহনের পটভুমি ও ইতিহাস লক্ষ করলে এদের মধ্যে অদ্ভুত মিল লক্ষ করা যায় । একদিকে যেমন রাস্ট্রগুলোকে বর্ডার দিয়ে তাদের ঐক্য এবং শক্তিকে ধীরে ধীরে দূর্বল করে দেয়া হচ্ছিল , অপরদিকে জাতীসংঘ, লীগ অফ নেশনস এর মাধ্যমে ইউরোপ থেকে জায়নিস্টদের ফিলিস্থিনের পবিত্রভূমিতে পাঠানো হচ্ছিল । আর এই সব কে জায়েজ করতে ব্যাবহার করা হচ্ছিল , জাতীয়তাবাদ , শক্তিশালি অর্থনিতি, উন্নতি, বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার মত মিডিয়া সন্ত্রাস । কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই যেন কোন এক যাদু বলে মুসলিম উম্মাহর বুকে ছুড়ি চালিয়ে রাষ্ট্রগুলোকে ভাগ করে ফেলা হলো ।
.
একটা ব্যাপার লক্ষ করলে বুঝা যাবে, এই ব্যাপারগুলো করা হয়েছে খুব ধীর স্থীর ভাবে , ধাপের পর ধাপ অনুসরন করে । প্রথমেই মুসলিম উম্মাহর মাঝে এই বিষবাস্প ঢুকানো হয় নি বরং মুসলিম উম্মাহর মাঝেই স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের নামে তৈরি করা হয়েছিল একদল গাদ্দারদের ।
.
বর্তমানের যদি আমরা মুসলিম উম্মাহর দিকে তাকাই, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাস্ট্রের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, সেখানে বসে আছে নয়ত গণতান্ত্রিক পাপেট ডিক্টেটর কিংবা বৃটিশদের বসিয়ে যাওয়া গাদ্দারদের বংশধর অথবা সেই ভুমিতে ক্রমাগত পাপেট শাষকদের পরিবর্তন হচ্ছে, যেন সঠিক দালাল কে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা ।
.
সম্প্রতি আমরা যদি বাংলাদেশের ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান খেয়াল করি । তাহলে নির্বাচনের আগের ও পরের অবস্থান চমকে দেবার মত । নির্বাচনের আগে খেয়াল করলে দেখা যাবে পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশের স্বৈরাচারের ব্যাপারে সৌচ্চার ছিল , একসময় মনে হয়েছিল এই বুঝি বি এন পি ক্ষমতায় চলে এলো , আম্রিকা এবার আর আওয়ামিলীগকে রাখবে না । কিন্তু নির্বাচনের পর চিত্র একেবারেই ভিন্ন !! কোন তৌলপাড় নেই ।
.
এর কারন হচ্ছে , পশ্চিমা রাস্ট্রগুলো কখনই এমন পাপেটদের চাইবে না যারা নিজেরাই স্ট্যাবল না। যাদের ক্ষমতা ধরে রাখার যৌগ্যতা বেশী ,তাদের কে তারা ক্ষমতাই চাইবে । তারা কখনই চিন্তা করবে না সেই শাষক কথিত গনতন্ত্র চর্চা কি আদৌ করছে নাকি রাতের বেলায় ব্যালোট পূর্ণ হচ্ছে । কারন শক্তিশালি জায়গিরদার ছাড়া জনগনকে কখনই নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা । তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য এমন সৈনিক দরকার যারা তাদের শত্রু(মুসলিম উম্মাহ) এর বিরুদ্ধে তাদের সকল ধরনের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে ।
.
আর তাদের যুদ্ধের বড় একটা ক্ষেত্রই হচ্ছে এই সমকামিতা , ট্রান্সজেন্ডার , L*B*T*G++, অস্লিলতা । কারন একবার যদি কোন জাতীর মগজে এইসব বস্তাপচা মতবাদ ঢুকিয়ে দেয়া যায় তাহলে তারা তাদের সৈনিক এ পরিনত হবে । যদি তাও না হয় অন্তত এরা কখনই তাদের বিরুদ্ধে উঠে দাড়ানোর সাহস পাবেনা ।
.
ইউরোপে একসময় কফিশপ এর জমজমাট ব্যাবসা শুরু হয়ে গেলো । কিন্তু এই নিয়ে ইউরোপের রাজারা বেজায় চিন্তুত ,ধীরে ধীরে কফিশপ গুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো , সেই জায়গায় মদের বার বসানো হলো । বলা হলো কফি খেলে মানুষের মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয় তারা রাস্ট্রব্যাবস্থা, জুলুম নিয়ে ভাবতে শুরু করে। বিদ্রোহ করতে চায় , তাই তাদের মস্তিষ্ক কে অসাঢ় করে রাখতে হবে , ভাবার অবাকাশ দেয়া যাবেনা । বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ দিকে তাকালে যেন এই চিত্র দেখতে পাই, মুসলিম উম্মাহর যুবকদের মস্তিষ্ক কে ভাবার অবকাশ দেয়া হচ্ছে না, তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে পশ্চিমা বস্তাপচা নোংড়া মতবাদ , চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের বাতিল অর্থব্যাবস্থা , অস্লিল এন্টারটেনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি । আর এই দিকে তারা ধীরে ধীরে লেভেল ৫ এর শত্রুকে ভেড়াচ্ছে তাদের সেনা ছাওনিতে । যদি না আমরা এই যুদ্ধে মোকাবেলা করতে পারি , তাহলে যেমন আমরা নিজেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবো একই সাথে আগামী মুসলিম উম্মাহকে রেখে যাবো পারাজিত যুদ্ধ ক্ষেত্রে ।
7