ইউরোপে জায়োনিস্ট ইয়াহুদিদের উত্থান এর পেছনে সব থেকে বড় দুইটি কারন হচ্ছে , অর্থনৈর্তিক এবং বিকৃত খ্রিস্টবাদের এর মধ্যে আরো বিকৃত সাধন এবং এক পর্যায়ে তাকে সেকুলারিজমে পরিণত করা । বর্তমানে যখন বলা হয়ে থাকে জায়নিস্টদেরদারা নিয়ন্ত্রিত অর্থব্যাবস্থা , তখন একদল লোকদের হাসাহাসি করতে দেখা যায় । কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমান ব্যাংক ভিত্তিক অর্থব্যাবস্থার হাতে খড়িই জায়নিস্টদের হাত ধরে। আরো স্পেসিফিক ভাবে বলতে গেলে রথচাইল্ড ফ্যামেলির হাত ধরে ।
এই রথচাইল্ড হচ্ছে সেই ব্যাক্তি যাকে উদ্দেশ্য করে ১৯১৭ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর চিঠি লিখেছিল। যা ইতিহাসে Balfour Declaration নামে পরিচিত । যেখানে জায়োনিস্ট আন্দোলোন কে সমর্থণ করে পবিত্র ভুমিতে (ফিলিস্থিনে) ইয়াহুদিদের আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লীগ অফ ন্যাশসন প্রতিষ্ঠা হলে , ব্রিটিশদের হাতে ফিলিস্থিনকে তুলে দেয়া হয় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর লীগ অফ ন্যাশনস কে বিলুপ্ত করে, ওয়াদা অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে পিটিশনের মাধ্যমে ৫০% এলাকা ইয়াহুদিদের এবং ৪৫% এলাকা আরবদের হাতে তুলে দেয়া হয় ।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইউরোপে প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলোন সফলতা পাবার আগ পর্যন্ত ইউরোপে ইয়াহুদিদের কোন অবস্থানই ছিলনা । বরং তাদের সব থেকে নিচু শ্রেণীর মানুষ হিসেবে ধরা হতো । কেননা বিকৃত খ্রিস্টবাদের মধ্যেও ইয়াহুদিদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল । এই কারনে তারা সবার প্রথমে এই বিকৃত খ্রিস্টবাকদের আরো বিকৃত করতে থাকে এবং এক সময়ে সেটাকে সেকুলারিজম এ রুপান্তরিত করে।
বর্তমান মুসলিম ভুমিতেও বিষেশ করে যদি আরবদের অবস্থান লক্ষ করা যায়, তাহলেও সেখানেও একই কার্যক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে । জাযিরাতুল আরব কে ধীরে ধীরে সেকুলারিজমের আতুর ঘরে পরিণত করা হচ্ছে । আর এই পরিবর্তন কে জাকজমকপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে ক্যামোফ্লেজ করা হচ্ছে । যে ইজরাইল প্রতিষ্ঠার করা হয়ছিল আরবের ভুমি দখল করে, সে ইজরাইলের ব্যাপারে পুরো আরব বিশ্বের অবস্থান নিরব । মুসলিম উম্মাহর চিন্তা বাদ দিয়েও যদি আরব জাতিয়তাবাদের কথা চিন্তা করা হয় তবুও আরবদের জন্য এটা চরম লজ্জাজনক ।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা সবদিক থেকে এমনভাবে মুসলিম উম্মাহকে ঘিরে ধরেছে যে, এই বিশ্বব্যবস্থাই মুসলিমদের উম্মাহর শত্রু । এর কোন একটা অংশ পরিবর্তন করার মাধ্যমে কিংবা সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে সিস্টেম পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নেই । এই বিশ্বব্যবস্থাই কুফরের ও শিরকের নিয়ন্ত্রণকারী । এই বিশ্বব্যাবস্থার প্রত্যেক টা জাহেলি দিক যেমন অর্থব্যবস্থা , সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যাবস্থা ,আইন ,প্রশাষন সবই এই মুর্তির একটা অংশ। আমাদের আন্দোলোন হতে হবে এই পুরো ব্যসস্থার বিরুদ্ধে। এই পুরো বিশ্বব্যবস্থার হাকিকত মুসলিম উম্মাহ সামনে তুলে ধরতে হবে, মুসলিম উম্মাহ গৌরবদৃপ্ত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে । আমাদের চিন্তাচেতনা কে আরো বিস্তৃত করতে হবে। অঞ্চল ভিত্তিক বা ভুমি ভিত্তিক চিন্তা চেতনা কে বাদ দিয়ে গ্লোবাল চিন্তাধারায় সামিল হতে হবে । গ্লোবাল চিন্তাধারার দাওয়াহ উম্মাহর মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে । তাদের এই বিশ্বব্যবস্থা তো বালুর প্রাসাদ ছাড়া কিছুই না । শুধু শক্তিশালি একটা ঝড়ের অপেক্ষায়।