Press ESC to close

দ্য লেজেন্ড “মুকুল রানা”

সদ্য নববিবাহিত একজন মানুষ মুকুল রানা, যাকে বিয়ের তিন–চার দিন পরে নতুন নববধূর সামনে থেকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে গুম করা হয়।

মুকুল রানার স্ত্রী মহুয়া আক্তারের ভাষ্য মতে,

‘বসুন্দিয়া মোড়ে পৌঁছালে ১০–১২ জন হঠাৎ করে আমাদের রিকশাভ্যানের সামনে এসে মুকুলকে জাপটে ধরে। এ সময় আমি দৌড়ে পাশের দোকান থেকে বাড়িতে ফোন করি।’

— দৈনিক প্রথম আলো (১৮ জুন ২০১৬)

মুকুল রানার সাথে গুমে থাকা একজন ভাইয়ের ভাষ্যমতে,

“গুম হওয়ার পর থেকেই তার ওপর নেমে আসে নির্মম জুলুম। তার হাঁটুতে এমনভাবে পেটানো হয়েছিল যে রক্ত আর পুঁজ মিশে মেঝেতে পড়ত। চোখে শক্ত করে কাপড় বেঁধে রাখা হতো দিনের পর দিন, যার ফলে ধীরে ধীরে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছিল। একদিন তো মারতে মারতে তার চোখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে এমন জোরে চাপ দেয় যে চোখের ভেতর থেকে পানি বের হয়ে আসে। ডিবি অফিসে উনার বিষয়গুলি কমবেশি সবাই জানত, তাই সবার মুখে মুখে ওনার এ নির্যাতনের কথাগুলো শোনা যেত।

অথচ এতসব জুলুমের পরেও মুকুল ভাই নিজের ঈমান, নিজের আদর্শের সাথে কখনো বেইমানি করেননি। এজন্যই অফিসারেরাও তাকে ‘ওস্তাদ’ বলে ডাকত।

তারা অন্যদের ভয় দেখিয়ে বলত,

‘তুই কি মুকুল রানার মতো মার খেতে চাস? পারলে সহ্য কর, না পারলে মার খাওয়ার আগেই সব সুন্দর করে বলে দে।’

কিছুদিন পর শুনলাম, মুকুল রানাকে ‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন থেকে সামান্য কিছু হলেই বলত,

‘কিরে, তুই কি মুকুল রানার মতো উপরে চলে যেতে চাস? নাকি এখনো সময় থাকতে সব বলে দিবি?’ ”

মুকুল রানা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ছিল একজন লেজেন্ডের মতো। কখনো কাউকে অত্যাচার বা ভয় দেখানোর জন্য মুকুল রানার কথা বলত। মুকুল রানাকে হত্যা করা হয় ১৮ জুন ২০১৬ সালে। অথচ হাসিনা পালানোর আগ পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুমের ভিকটিমদের মুকুল রানার কথা বলে ভয় দেখাত।

আমাকে যখন গুম করা হয়, তখন এডিসি আহমেদুল ইসলাম আমার মাথায় লোডেড রিভলভার ধরে হুমকি দেয়—

“শু**** বাচ্চা, তোর অবস্থাও মুকুল রানার মতো হবে। তোকেও ফেলে রাখব।”

মুকুল রানাকে গুম করার পর হত্যা করে ডিবি সাউথ রমনা স্পেশাল জোনাল টিম। ডিসি মশিউর, এডিসি রাজিব, ইন্সপেক্টর ফজলুল কবির, এসি হাসান আরাফাত—মিলে মুকুল রানাকে হত্যা করে। আর তাকে জঙ্গি প্রমাণ করে মিথ্যা ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে তার হত্যাকে জাস্টিফাই করে প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউনসহ ফ্যাসিস্ট মিডিয়া।

একমাত্র ডিসি মশিউরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিতে ছাত্র-জনতাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি সবাই এখনো বহাল তবিয়তেই আছে।